শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, চিফ রিপোর্টার। মিরপুরে বাংলা টেলিভিশনের সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। (২০’শে সেপ্টেম্বর ২০২৬) রোববার দুপুরে মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। সমাবেশে গুলিবর্ষণের শিকার সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজসহ বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান, ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল, দৈনিক খবরের আলো পত্রিকার সম্পাদক আমিরুজ্জামান আমির, মিরপুর সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (কেন্দ্রীয় কমিটির) সাংগঠনিক সম্পাদক ভুইয়া কামরুল হাসান সোহাগ। সমাবেশে আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে উদ্বিগ্ন করেছে। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন না থাকায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে নিজেদের নিরাপত্তা ও ঘটনার বিচার দাবি করতে হচ্ছে। সাংবাদিকতা পেশায় একের পর এক হত্যা, নির্যাতন, হামলা ও গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। অথচ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তিনি আরও বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত। মিরপুরে সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, এটি দেশের সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আহমেদ আবু জাফর বলেন, ১৯৭১ সালের পর বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হয়নি। আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, বলেন। সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, হুমকি ও মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার অপচেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় যারা জরিত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। খান সেলিম রহমান আরও বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা নির্যাতন করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সকল সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। “সাংবাদিক নিরাপদ না হলে সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তাই সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখনই সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।” ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। সকল সাংবাদিক সকল সংগঠন এখনই সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।” সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা মীর আলাউদ্দিন, মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী শরীফ নেওয়াজ লালন, সহ-সভাপতি আনিসুল হক ক্লিপটন, মিরপুর সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মারুফ হায়দার, মোশাররফ হোসেন মনা, মর্তুজা পাপ্পু ও এস এম আর শহীদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।