
তুর্য, রিপোর্টার ঢাকা:
রাজধানীর পল্লবীতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রতিপাদ্য “কমিউনিটি পুলিশিং—সবাই মিলে গড়ি নিরাপদ সমাজ” সামনে রেখে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা (ওপেন হাউজ ডে) অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (Dhaka Metropolitan Police)-এর পল্লবী থানা।
শনিবার পল্লবী পুরাতন থানার সামনে অবস্থিত পল্লবী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে এক ব্যতিক্রমী সেতুবন্ধন তৈরি হয়। স্থানীয় নাগরিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং দ্রুত প্রতিকার দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম (S N Md Nazrul Islam) এবং ডিএমপি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার (Md Mostak Sarkar)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এতে সাধারণ জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিকরা যদি পুলিশকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তবে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন কারণে এই সহযোগিতা সবসময় পাওয়া যায়নি। স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তিনি সবসময় জনগণকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কারণে অতীতে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; তবে বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে, যাতে তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার কথাও উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৩১ দফার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে সমাজকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব।
নাগরিকদের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পল্লবী এলাকাকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।