
মোঃ শাকিল রেজা, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরে প্রধানঃ
আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় কালীগঞ্জের সুপার লাক্সারি ডাইন অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে ঝিনাইদহ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা ওলিউর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকাকে আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব মডেল এলাকায় রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে একের পর এক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আইডিআরইউপি (IDRIUP) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ২৫-২৬ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা কার্পেটিং করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে টিআর খাতে ৩০ লাখ টাকা, কাবিখা খাতে ২৫ লাখ টাকা এবং ৪০ টন খাদ্যশস্যের বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৪০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কালভার্ট ও ইউ-ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এরই মধ্যে মঙ্গলপৈতা এলাকা থেকে ১২ কিলোমিটার নদী খননের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া চিত্রা নদীর পাড় বাঁধাই করে কালীগঞ্জ শহরে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুরো নির্বাচনী এলাকায় ছোট-বড় মোট ২১টি খাল খননের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ১৭টি মাদ্রাসা, ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কারের প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে বলে জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন,
“শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ১৬০টি মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, ঈদগাহ ও শ্মশানের প্রতিটির জন্য ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কালীগঞ্জে নির্মিত ১০ শয্যার শিশু হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনাও চলমান রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদক ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য বলেন,
“একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মেধাবী সমাজ গঠনে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেকোনো মূল্যে মাদক কারবারি ও অপরাধীদের দমন করা হবে। এ বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার অসহায় মানুষের মাঝে বিপুল পরিমাণ শাড়ি, লুঙ্গি এবং ৩০০টি ফুড প্যাক বিতরণ করা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে সংসদ সদস্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“জনগণের সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে ঝিনাইদহ-৪ আসনকে একটি স্বপ্নের মডেল এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে।”