
আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ভোটাররাই; একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে ভোটাররা নতুন সমীকরণ গড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেড় শতাধিক আসনে জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। জামায়াত জোট ৭৭ আসনে জয়ী হয়েছে এবং অন্যান্য আরও সাত প্রার্থীর জয় তথ্য পাওয়া গেছে। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটি, প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব ও পরিচিত মুখকে ছাপিয়ে উঠে এসেছে নতুন বার্তা—নির্বাচনে বিভিন্ন দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
প্রধান হেভিওয়েট প্রার্থীদের ফলাফল:
মিয়া গোলাম পরওয়ার – খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার, পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ – কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বেসরকারিভাবে নির্বাচনে হেরে গেছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়েছেন এবং ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
শিশির মনির – সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম – বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম।
মাহমুদুর রহমান মান্না – বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে তিনি মাত্র ৩,৪২৬ ভোট পেয়েছেন এবং জামানত হারিয়েছেন।
সারজিস আলম – পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১-দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট পেয়েছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী – ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়েছেন। এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
তাসনিম জারা – ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
মো. মামুনুল হক – ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ৮৬ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৫১ ভোট।
রাশেদ খান – ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তালিব, ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে।
আমিনুল হক – ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
জিএম কাদের – রংপুর-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।
সাইফুল হক – ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট, যা সাইফুল হকের থেকে ২২ হাজার ১৮০ বেশি।
হারুনুর রশীদ হারুন – বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট।
মো. গোলাম সারোয়ার তুষার – নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির আবদুল মঈন খান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. গোলাম সারোয়ার তুষার পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট।