
শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, চিফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রাপ্ত ফলাফলের অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ এহসানুল হক (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৩৫৪ ভোট। ফলে অধ্যাপক ডাঃ বাচ্চু ৬১ হাজার ৯০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর-৩ আসনের ১৮০টি কেন্দ্রের সবকটিতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৩ হাজার ২২২ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ১৬৮ এবং বাতিলকৃত ভোট ৭ হাজার ৬৯২। প্রদত্ত ভোটের হার ৫৭.৫০ শতাংশ।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইয়াজাদুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া প্রতীক) ২১ হাজার ৮৪৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ৫ হাজার ৯৮৩ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীক ২ হাজার ২৯৫ ভোট, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক ১ হাজার ৯৫৫ ভোট এবং বাসদ-এর মই প্রতীক ৪৮০ ভোট।
বিজয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “এই বিজয় শহীদ জিয়ার আদর্শের এবং গাজীপুর-৩ আসনের অধিকারবঞ্চিত মানুষের। সাধারণ জনগণ যে আস্থা নিয়ে আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি তার মর্যাদা রক্ষায় জীবনভর কাজ করে যাব। পাশাপাশি এ বিজয়ের সাফল্য ধরে রাখার জন্য সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।”
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা এস এম রুহুল আমিন বলেন, “১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনে এই আসন থেকে সর্বশেষ ধানের শীষ প্রতীকের চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেননি। ৪৭ বছর পর শ্রীপুরবাসীর জন্য এ বিজয় এক অন্যরকম অনুভূতি। দীর্ঘদিন পর মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং গাজীপুর-৩ আসন পুনরুদ্ধার হওয়ায় আনন্দের মাত্রা অসীম।”
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শ্রীপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণের ধুম পড়ে। বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা এই জয়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।