নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সার্কেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এস এম মাহফুজুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মোটরযান পরিদর্শকের নাম এসেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এস এম মাহফুজুর রহমান, যাকে অভিযোগকারীরা আওয়ামী লীগের দোসর ও শেখ সেলিমের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয়ে একটি দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোমেন নামে এক দালাল লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল ও অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শান্ত নামে আরেক ব্যক্তিকে স্থানীয়ভাবে "বিআরটিএর ক্যাশিয়ার" হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে থাকেন এবং অন্য কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা করেন না।
এছাড়া শাহীন নামে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনিয়মের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দূর-দূরান্ত থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা অনেক প্রার্থীর উত্তরপত্র জেলা পরিষদের তৃতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে শাহীন ইচ্ছামতো পাস বা ফেল নির্ধারণ করেন। এমনকি প্রতিটি পরীক্ষায় অযোগ্য ব্যক্তিদেরও অর্থের বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, শাহীন নিজেকে বিআরটিএর প্রধান বিসিএস ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এভাবে অনিয়ম চলতে থাকলে গাজীপুর বিআরটিএর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও নষ্ট হবে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গাজীপুর বিআরটিএ অফিসে নিয়ম অনুযায়ী সেবা পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের লার্নার ও মূল পরীক্ষার ফাইল অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। লার্নার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ছবি ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে অনেককে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। অন্যদিকে, দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করলে পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
(চলবে—পর্ব ২)
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: খান সেলিম রহমান
মোবাইলঃ 01712608880
ইমেইলঃ khansalimrahman@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Bangladesh CentralPress Club