
ফরহাদ রহমান
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার
উখিয়া–টেকনাফে বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল; শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই দেখেছে দুই উপজেলা।
ভোটগণনা শেষে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন শাহজাহান চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-মনোনীত এই প্রার্থী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে নির্বাচন করেন, পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৪৯।
অন্যদিকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং ‘সিংহ’ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ পেয়েছেন ৩৭৯ ভোট। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।
এই বিজয়ের মাধ্যমে পঞ্চমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলেন শাহজাহান চৌধুরী। এর আগে তিনি সংসদের হুইপ এবং রেলপথ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তাই তার পুনর্নির্বাচনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ফলাফল ঘোষণার পর উখিয়া–টেকনাফজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিজয় মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বিজয়-প্রতিক্রিয়ায় শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “এই জয় ব্যক্তির নয়, এলাকার মানুষের।” তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—সবার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব।” উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।